Posts

Showing posts with the label ভৌত বিজ্ঞান

সংরক্ষণশীল বল, অসংরক্ষণশীল বল, অভিকর্ষজ বল ও চৌম্বক বল

  ১. সংরক্ষণশীল বল (Conservative Force) = সৎ বা "ফেরতযোগ্য" বল এটাকে ভাবুন একজন "সৎ ব্যাংক ম্যানেজার" বা "স্প্রিং" -এর মতো। গল্প: ধরুন, আপনি মেঝের ওপর দাঁড়িয়ে একটি বলকে সোজা ওপরের দিকে ছুড়ে দিলেন। বলটি ওপরে উঠতে আপনার শক্তি খরচ হলো। কিন্তু মজার বিষয় হলো, বলটি যখন আবার আপনার হাতে ফিরে আসবে, তখন সে ঠিক ওই পরিমাণ শক্তি নিয়েই ফিরে আসবে (বাতাসের বাধা না থাকলে)। আসল কথা: এই বলের বিরুদ্ধে কাজ করলে সেই শক্তি হারিয়ে যায় না, জমা থাকে। আপনি যে পথেই যান না কেন (সোজা বা আঁকাবাঁকা), শুরুর বিন্দু আর শেষ বিন্দু এক হলে কাজের পরিমাণ একই থাকবে। আর ঘুরে আগের জায়গায় ফিরে আসলে মোট কাজ শূন্য। উদাহরণ: অভিকর্ষ বল (Gravitational Force), স্প্রিং-এর বল। মনে রাখার মন্ত্র: যা জমা দেব, তাই ফেরত পাবো। শক্তি নষ্ট হয় না। ২. অসংরক্ষণশীল বল (Non-conservative Force) = অসৎ বা "লোভী" বল এটাকে ভাবুন "ঘর্ষণ" বা "কাদা রাস্তা" হিসেবে। এটি হলো এমন এক শক্তি যা "ফি" বা "ট্যাক্স" কেটে রাখে, আর ফেরত দেয় না। গল্প: আপনি একটি ভারী বাক্সকে মেঝের ওপ...

আপক্ষিক তাপ

খুব সহজ কথায়, আপেক্ষিক তাপ হলো কোনো জিনিসের "তাপ গিলে ফেলার ক্ষমতা" বা "গরম হওয়ার প্রতি অনীহা" । আসুন একটা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝি, তাহলে পানির মতোই পরিষ্কার হয়ে যাবে: দৃশ্যপট: ধরুন, দুপুরের কড়া রোদে আপনি সমুদ্র সৈকতে হাঁটছেন। ১. আপনি যখন বালির ওপর দিয়ে হাঁটবেন, পা পুড়ে যাবে কারণ বালি ভীষণ গরম। ২. কিন্তু দৌড়ে গিয়ে যখন সমুদ্রের পানিতে নামবেন, দেখবেন পানি বেশ ঠান্ডা/আরামদায়ক। প্রশ্ন হলো: সূর্য তো বালি এবং পানি—দুটিকেই সমানভাবে তাপ দিচ্ছে। তাহলে বালি আগুনের মতো গরম হলো, কিন্তু পানি কেন ঠান্ডা থাকল? উত্তর: এখানেই আপেক্ষিক তাপের খেলা। বালির আপেক্ষিক তাপ কম: মানে হলো, বালি অল্প একটু তাপ পেলেই হুট করে গরম হয়ে যায়। তার তাপ ধরে রাখার বা "হজম" করার ক্ষমতা কম। সে তাপ পেলেই তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পানির আপেক্ষিক তাপ বেশি: মানে হলো, পানি প্রচুর পরিমাণে তাপ নিজের ভেতর শুষে নিতে পারে, কিন্তু তার তাপমাত্রা সহজে বাড়ে না। পানিকে ১ ডিগ্রি গরম করতে অনেক বেশি তাপ বা জ্বালানি খরচ করতে হয়। সহজ সংজ্ঞা: এক কেজি ওজনের কোনো বস্তুর তাপমাত্রা মাত্র ১ ডিগ্রি বাড়াতে যতটুকু তাপের (He...

পলিমার (Polymer)

চলুন, পলিমারকে চিনব  "ফুলের মালা"  বা  "ট্রেনের বগি" -র কনসেপ্ট দিয়ে। 🚂 পর্ব ১: পলিমার আসলে কী? (The Concept) ভাবুন তো, একটা  ফুলের মালা । এখানে একটা  একক ফুল  হলো =  মনোমার (Monomer) । আর সুতোয় গাঁথা  পুরো মালাটা  হলো =  পলিমার (Polymer) । নামের অর্থ: গ্রিক শব্দ  Poly  অর্থ 'অনেক' আর  Meros  অর্থ 'অংশ'। অর্থাৎ, অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ জোড়া দিয়ে যা তৈরি হয়, তাই পলিমার। যে ছোট অণুগুলো জোড়া লাগে, তাদের বলে  মনোমার । যে প্রক্রিয়া বা রিঅ্যাকশনে এরা জোড়া লাগে, তাকে বলে  পলিমারকরণ (Polymerization) । মনে রাখার মন্ত্র:  অনেকগুলো "মনোমার" হাত ধরাধরি করে "পলিমার" বানায়। (যেমন: ট্রেনের অনেকগুলো বগি মিলে একটা পুরো ট্রেন হয়)। 🌳 পর্ব ২: পলিমারের ফ্যামিলি (প্রকারভেদ) পলিমার মূলত দুই ফ্যামিলির হয়। ১. প্রাকৃতিক পলিমার (ন্যাচারাল হিরো): যা প্রকৃতিতে বা জীবদেহে এমনিতেই পাওয়া যায়। স্টার্চ ও সেলুলোজ:  এদের মনোমার হলো  গ্লুকোজ । (গাছপালা ও ভাতের মাড়)। প্রোটিন:  এর মনোমার হলো  অ্যামাইনো অ্যাসিড । (মাছ, মাংস...