পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ এবং আবেশ
তাপের ৩টি উপায় (পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ) এবং তড়িৎ বা চুম্বকের ১টি বিষয় (আবেশ)—এগুলো মনে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো
১. পরিবহন (Conduction) = হাতে হাতে পৌঁছানো
বাস্তবে: কঠিন পদার্থের (যেমন লোহা) অণুগুলো নিজের জায়গা থেকে নড়ে না, কিন্তু পাশের অণুকে তাপ দিয়ে দেয়।উদাহরণ: গরম চায়ে স্টিলের চামচ ডুবিয়ে রাখলে চামচের হাতল গরম হয়ে যায়। চামচের অণুগুলো হাতে হাতে তাপ পাঠিয়ে দিয়েছে।মনে রাখার মন্ত্র: কঠিন মাধ্যম + নড়াচড়া নেই + হাতে হাতে পাস।
২. পরিচলন (Convection) = নিজে গিয়ে দিয়ে আসা
বাস্তবে: তরল বা বায়বীয় পদার্থে (যেমন পানি বা বাতাস) অণুগুলো তাপ নিয়ে নিজেই গরম হয়ে ওপরে উঠে যায় এবং ঠান্ডা অণু নিচে নেমে আসে। মানে তারা নিজেরাই চলাচল করে।উদাহরণ: পানি ফোটানোর সময় দেখবেন পানি টগবগ করে নড়ছে। নিচের গরম পানি ওপরে উঠছে, আর ওপরের ঠান্ডা পানি নিচে নামছে।মনে রাখার মন্ত্র: তরল/বায়বীয় মাধ্যম + নিজেরাই দৌড়াদৌড়ি করে।
৩. বিকিরণ (Radiation) = ছুড়ে মারা
বাস্তবে: কোনো মাধ্যম (কঠিন, তরল বা বায়ু) ছাড়াই তাপ যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়।উদাহরণ: সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব অনেক, মাঝখানে কোনো বাতাস নেই (শূন্যস্থান)। তবুও সূর্যের তাপ সরাসরি আমাদের কাছে আসে। আগুনের পাশে দাঁড়ালে যে গরম লাগে, সেটাও বিকিরণ।মনে রাখার মন্ত্র: কোনো মাধ্যম লাগে না + সরাসরি চলে আসে (Wireless)।
৪. আবেশ (Induction) = সঙ্গ দোষে লোহাও ভাসে (স্পর্শ ছাড়া প্রভাব)
বাস্তবে: একটি চার্জিত বস্তু বা চুম্বককে অন্য একটি বস্তুরকাছে আনলে (স্পর্শ না করে) যদি দ্বিতীয় বস্তুর মধ্যে বিদ্যুৎ বা চুম্বকীয় শক্তি তৈরি হয়, তাকে আবেশ বলে।উদাহরণ: শুকনো চুলে চিরুনি ঘষে কাগজের ছোট টুকরার কাছে ধরলে কাগজগুলো লাফিয়ে চিরুনিতে লেগে যায়। চিরুনি কাগজকে স্পর্শ করেনি, কিন্তু দূর থেকেই কাগজকে প্রভাবিত বা চার্জিত করেছে। মোবাইলের ওয়্যারলেস চার্জিংও এই আবেশের মাধ্যমেই কাজ করে।মনে রাখার মন্ত্র: ছোঁয়া যাবে না + দূর থেকেই প্রভাব ফেলা (Influence without touch) ।
Comments
Post a Comment