সংরক্ষণশীল বল, অসংরক্ষণশীল বল, অভিকর্ষজ বল ও চৌম্বক বল
১. সংরক্ষণশীল বল (Conservative Force) = সৎ বা "ফেরতযোগ্য" বল
গল্প: ধরুন, আপনি মেঝের ওপর দাঁড়িয়ে একটি বলকে সোজা ওপরের দিকে ছুড়ে দিলেন। বলটি ওপরে উঠতে আপনার শক্তি খরচ হলো। কিন্তু মজার বিষয় হলো, বলটি যখন আবার আপনার হাতে ফিরে আসবে, তখন সে ঠিক ওই পরিমাণ শক্তি নিয়েই ফিরে আসবে (বাতাসের বাধা না থাকলে)।আসল কথা: এই বলের বিরুদ্ধে কাজ করলে সেই শক্তি হারিয়ে যায় না, জমা থাকে। আপনি যে পথেই যান না কেন (সোজা বা আঁকাবাঁকা), শুরুর বিন্দু আর শেষ বিন্দু এক হলে কাজের পরিমাণ একই থাকবে। আর ঘুরে আগের জায়গায় ফিরে আসলে মোট কাজ শূন্য।উদাহরণ: অভিকর্ষ বল (Gravitational Force), স্প্রিং-এর বল।মনে রাখার মন্ত্র: যা জমা দেব, তাই ফেরত পাবো। শক্তি নষ্ট হয় না।
২. অসংরক্ষণশীল বল (Non-conservative Force) = অসৎ বা "লোভী" বল
গল্প: আপনি একটি ভারী বাক্সকে মেঝের ওপর দিয়ে ঘষে ঘষে এক রুম থেকে অন্য রুমে নিলেন। এতে আপনার অনেক শক্তি খরচ হলো (ঘর্ষণের কারণে)। এখন যদি বাক্সটিকে আবার ঘষে ঘষে আগের রুমে ফেরত আনেন, তবে কি আপনার খরচ হওয়া শক্তি ফেরত পাবেন? একদম না! বরং আরও শক্তি খরচ হবে। ওই শক্তিটা তাপ হয়ে বাতাসে উড়ে গেছে।আসল কথা: যে বলের বিরুদ্ধে কাজ করলে সেই শক্তি আর ফেরত পাওয়া যায় না (তাপ বা শব্দ হিসেবে নষ্ট হয়ে যায়), সেটাই অসংরক্ষণশীল বল। এখানে কোন পথে কাজ করছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পথ যত লম্বা, শক্তি খরচ তত বেশি।উদাহরণ: ঘর্ষণ বল (Friction), সান্দ্রতা (Viscosity)।মনে রাখার মন্ত্র: যা খরচ হবে, তা চিরতরে লস। আর ফেরত পাওয়া যাবে না।
৩. অভিকর্ষজ বল (Gravitational Force) = পৃথিবীর মায়া
গল্প: আপনার হাতে যা কিছুই থাকুক—কলম, মোবাইল, বা আপনি নিজে—লাফ দিলে নিচে পড়বেনই। পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে সবকিছুকে যে টানে টেনে ধরে রেখেছে, সেটাই অভিকর্ষজ বল।পার্থক্য বুঝুন: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর আকর্ষণ হলোমহাকর্ষ । কিন্তু সেই দুটির মধ্যে একটি যদি"পৃথিবী" হয়, তবে তাকে আমরা স্পেশাল নাম দিই—"অভিকর্ষ" ।উদাহরণ: গাছ থেকে আম পড়া। আমটি মহাকাশে ভেসে যায় না, পৃথিবীর টানে মাটিতেই পড়ে।মনে রাখার মন্ত্র: পৃথিবী আমাকে ছাড়বে না, মাটির টানে ফিরতেই হবে।
৪. চৌম্বক বল (Magnetic Force) = পছন্দ-অপছন্দের খেলা
গল্প: দুটি চুম্বক হাতে নিন।একটার উত্তর মেরুর কাছে আরেকটার দক্ষিণ মেরু আনুন—দেখবেন একে অপরকে খপ করে ধরে ফেলেছে ( আকর্ষণ )। যেন কত দিনের চেনা!কিন্তু জোর করে উত্তর মেরুর কাছে উত্তর মেরু আনার চেষ্টা করুন—দেখবেন একে অপরকে ধাক্কা দিচ্ছে, কাছেই আসতে চাইছে না ( বিকর্ষণ )।
আসল কথা: চুম্বক বা গতিশীল চার্জ (বিদ্যুৎ) একে অপরের ওপর যে বল প্রয়োগ করে, সেটাই চৌম্বক বল। এটি আকর্ষণও হতে পারে, আবার বিকর্ষণও হতে পারে।উদাহরণ: কম্পাসের কাঁটা সবসময় উত্তর দিকে ঘুরে থাকে, ফ্রিজের দরজায় ম্যাগনেট আটকে থাকে।মনে রাখার মন্ত্র: বিপরীত হলে কাছে টানে (আকর্ষণ), একই রকম হলে দূরে ঠেলে দেয় (বিকর্ষণ)।
Comments
Post a Comment