খুব সহজ কথায়, আপেক্ষিক তাপ হলো কোনো জিনিসের "তাপ গিলে ফেলার ক্ষমতা" বা "গরম হওয়ার প্রতি অনীহা"।
আসুন একটা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝি, তাহলে পানির মতোই পরিষ্কার হয়ে যাবে:
দৃশ্যপট:
ধরুন, দুপুরের কড়া রোদে আপনি সমুদ্র সৈকতে হাঁটছেন।
১. আপনি যখন বালির ওপর দিয়ে হাঁটবেন, পা পুড়ে যাবে কারণ বালি ভীষণ গরম।
২. কিন্তু দৌড়ে গিয়ে যখন সমুদ্রের পানিতে নামবেন, দেখবেন পানি বেশ ঠান্ডা/আরামদায়ক।
প্রশ্ন হলো: সূর্য তো বালি এবং পানি—দুটিকেই সমানভাবে তাপ দিচ্ছে। তাহলে বালি আগুনের মতো গরম হলো, কিন্তু পানি কেন ঠান্ডা থাকল?
উত্তর: এখানেই আপেক্ষিক তাপের খেলা।
বালির আপেক্ষিক তাপ কম: মানে হলো, বালি অল্প একটু তাপ পেলেই হুট করে গরম হয়ে যায়। তার তাপ ধরে রাখার বা "হজম" করার ক্ষমতা কম। সে তাপ পেলেই তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
পানির আপেক্ষিক তাপ বেশি: মানে হলো, পানি প্রচুর পরিমাণে তাপ নিজের ভেতর শুষে নিতে পারে, কিন্তু তার তাপমাত্রা সহজে বাড়ে না। পানিকে ১ ডিগ্রি গরম করতে অনেক বেশি তাপ বা জ্বালানি খরচ করতে হয়।
সহজ সংজ্ঞা:
এক কেজি ওজনের কোনো বস্তুর তাপমাত্রা মাত্র ১ ডিগ্রি বাড়াতে যতটুকু তাপের (Heat) প্রয়োজন হয়, সেটাই ওই বস্তুর আপেক্ষিক তাপ।
আরেকটু মজা করে বললে:
যার আপেক্ষিক তাপ কম (যেমন- লোহা, তামা, বালি), সে অল্প আঘাতেই রেগে যাওয়ার মতো—একটু তাপ দিলেই গরম হয়ে যায়।
যার আপেক্ষিক তাপ বেশি (যেমন- পানি), সে খুব শান্ত স্বভাবের—অনেক তাপ দিলেও সে চট করে গরম হয় না, ধীরে ধীরে গরম হয়।
কেন এটা জানা জরুরি?
গাড়ির ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখতে আমরা কেন পানি ব্যবহার করি? কারণ পানি ইঞ্জিন থেকে প্রচুর তাপ শুষে নেয়, কিন্তু নিজে খুব একটা গরম হয় না (বা ফুটতে শুরু করে না)। যদি পানির বদলে তেল বা অন্য কিছু দিতাম, তবে সেটা তাড়াতাড়ি গরম হয়ে ইঞ্জিন নষ্ট করে ফেলত।
সারকথা:
আপেক্ষিক তাপ = কোনো জিনিসের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়াতে কতটুক "জোর" বা "তাপ" দিতে হবে, তার পরিমাপ।
Comments
Post a Comment