Posts

কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার

কার্বনকে (Carbon) যদি এক কথায় প্রকাশ করতে হয়, তবে তাকে বলতে হবে "পর্যায় সারণির জাদুকর" বা "বহুরূপী" । এটমের গঠনের মতো কার্বনের বিষয়টাও গল্পের মাধ্যমে মনে রাখা যাক। ধরুন, কার্বন হলো এমন একজন "বন্ধু" যার ৪টি হাত আছে! হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। কার্বনের সুপারপাওয়ার হলো তার এই ৪টি হাত। সে এই হাতগুলো দিয়ে নিজের সাথে বা অন্য যে কারো সাথে খুব সহজেই হাত মেলাতে পারে। এই গুণের কারণেই সে পৃথিবীর প্রায় সব জায়গায় মিশে আছে। আসুন দেখি কার্বন কীভাবে বিভিন্ন রূপে আমাদের চারপাশে লুকিয়ে আছে। ১. কার্বন যখন "বহুরূপী" (একই জিনিস, কিন্তু রূপ আলাদা) সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, কার্বন নিজেকে সাজানোর ওপর ভিত্তি করে একদম বিপরীত দুটি জিনিস হতে পারে। একে বলে এলোট্রপি (Allotropy) । হীরা (Diamond): কার্বন যখন তার ৪টি হাত দিয়ে একে অপরকে খুব শক্তভাবে জাপটে ধরে, তখন সে হয়ে যায় পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পদার্থ—হীরা! ভাবুন: এটা কার্বনের "বড়লোক ও শক্ত" রূপ। পেন্সিলের শিস (Graphite): কার্বন পরমাণুগুলো যখন একটু ঢিলেঢালাভাবে স্তরে স্তরে সাজানো থাকে, তখন সে হয় গ্রাফাইট। এটা এত নরম যে ক...

এটমের গঠন

এটম বা পরমাণুর গঠনকে যদি বইয়ের কঠিন ভাষায় না পড়ে একটা  গল্প বা সিনেমার  মতো করে চিন্তা করেন, তবে এটা মনে রাখা খুবই সহজ। চলুন, এমন একটি উদাহরণের মাধ্যমে শিখি যা আপনি জীবনেও ভুলবেন না। কল্পনা করুন, এটম হলো একটা  সৌরজগৎ  (Solar System) । ১. মূল চরিত্রসমূহ (The Main Characters) এটমের ভেতরে মূলত ৩ জন "খেলোয়াড়" বা কণিকা থাকে। এদের নাম ও স্বভাব মনে রাখুন: ১.  প্রোটন (Proton):  একে ভাবুন  "পজিটিভ হিরো" । এর গায়ে সবসময় পজিটিভ (+) চার্জ থাকে। ২.  ইলেকট্রন (Electron):  একে ভাবুন  "চঞ্চল ভিলেন" । এর গায়ে সবসময় নেগেটিভ (-) চার্জ থাকে। ৩.  নিউট্রন (Neutron):  একে ভাবুন  "শান্ত বা উদাসীন ব্যক্তি" । এর কোনো চার্জ নেই (Neutral), সে পজিটিভও না, নেগেটিভও না। ২. এটমের বাড়ি: গঠন (The Structure) এখন চলুন দেখি এরা কে কোথায় থাকে। ক) কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস (The Nucleus) – সূর্যের মতো এটমের ঠিক মাঝখানে একটা শক্ত ও ভারী জায়গা থাকে, যাকে বলে  নিউক্লিয়াস । এখানে  প্রোটন  (পজিটিভ) এবং  নিউট্রন  (শান্ত) একে অপরকে জড়িয়ে খুব শক্তভা...

IPCC

আগে আমরা UNEP (ডাক্তার) এবং WMO (ল্যাব টেকনিশিয়ান)-এর কথা বলেছিলাম। আমি সেখানে বলেছিলাম যে, এই দুজনের একটি "সন্তান" আছে। সেই সন্তানটিই হলো IPCC । আসুন, IPCC-কে একদম গল্পের মতো করে পুরোটা জেনে নিই। ১. সহজ পরিচয়: "বিশ্বের প্রধান বিজ্ঞান শিক্ষক" বা "মেডিক্যাল বোর্ড" IPCC-কে আপনি পৃথিবীর "মেডিক্যাল বোর্ড" ভাবতে পারেন। ডাক্তার (UNEP) এবং ল্যাব টেকনিশিয়ান (WMO) মিলে ১৯৮৮ সালে এই বোর্ড গঠন করে। এদের কাজ রোগী দেখা বা ওষুধ দেওয়া নয়। এদের কাজ হলো—সারা বিশ্বের হাজার হাজার বিজ্ঞানীর গবেষণাপত্র পড়ে একটা চূড়ান্ত "রিপোর্ট কার্ড" তৈরি করা। পুরো নাম: Intergovernmental Panel on Climate Change. জন্ম: ১৯৮৮ সালে। বাবা-মা: WMO এবং UNEP। সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড। ২. এরা আসলে কী করে? (সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা ভাঙান) অনেকে ভাবেন IPCC-র নিজস্ব ল্যাবরেটরি আছে বা এরা নিজেরা গবেষণা করে। এটা ভুল! আসল কাজ: এরা নিজেরা কোনো গবেষণা করে না। সারা বিশ্বে আবহাওয়া নিয়ে যত বিজ্ঞানী যা কিছু গবেষণা করেন, IPCC-র সদস্যরা (যারা নিজেরাও বিজ্ঞানী) সেই হাজার হাজার পেপার ...