ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল (ভৌত বিজ্ঞান)
ঘর্ষণ বা Friction-কে আমরা বলতে পারি "দুষ্টু-মিষ্টি বন্ধু"। সে আমাদের কাজে বাধা দেয় (তাই গাড়ি চালাতে তেল খরচ হয়), আবার সে না থাকলে আমরা হাঁটতে পারতাম না, পিছলে পড়ে যেতাম!
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static Friction): "মিস্টার জেদি বা অলস"
কাজ: এ বস্তু নড়তেই দিতে চায় না। সব ঘর্ষণের মধ্যে এর শক্তি সবচেয়ে বেশি। উদাহরণ: পার্ক করা গাড়ি, টেবিলে রাখা বই (যেটা নিজে থেকে নড়ছে না)। মনে রাখার উপায়: স্থিতি = স্থির হয়ে বসে থাকা (Stubborn)।
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding/Kinetic Friction): "ঘষাঘষি মাস্টার"
কাজ: এটা স্থিতি ঘর্ষণের চেয়ে দুর্বল (তাই একবার বস্তু চলতে শুরু করলে ধাক্কা দেওয়া সহজ হয়)। উদাহরণ: স্লাইডারে বা স্লিপারে চড়ে নিচে নামা, মেঝের ওপর দিয়ে বাক্স টেনে নেওয়া, শীতে দুই হাত ঘষা। মনে রাখার উপায়: স্লাইডিং = স্লিপ খাওয়া বা ঘষা লাগা।
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling Friction): "চাকার জাদু"
কাজ: এটা হলো সবচেয়ে দুর্বল এবং বন্ধুসুলভ ঘর্ষণ। এখানে বাধা সবচেয়ে কম। উদাহরণ: সাইকেলের চাকা, সুটকেসের চাকা, মার্বেল গড়িয়ে দেওয়া। মনে রাখার উপায়: আবর্ত = আবর্তন বা ঘোরা (Rolling)। চাকা থাকলেই জীবন সহজ!
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid Friction): "সাঁতারের বাধা"
কাজ: বস্তুর আকার যত সুচালো (streamlined) হবে, এই ঘর্ষণ তত কমবে। (তাই মাছের শরীর আর রকেটের মাথা সুচালো হয়)। উদাহরণ: নদীতে নৌকা চলা, আকাশে বিমান ওড়া, পানিতে সাঁতার কাটা। মনে রাখার উপায়: প্রবাহী = যা প্রবাহিত হয় (পানি বা বাতাস)।
Comments
Post a Comment