মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন বংশ
ইতিহাস মনে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এটাকে একটা
১. মৌর্য বংশ (The Maurya Empire) - ভারতের প্রথম অখণ্ড সাম্রাজ্য
পটভূমি: তখন মগধ শাসন করত অত্যাচারী নন্দ বংশ। চাণক্য (কৌটিল্য) অপমানিত হয়ে প্রতিজ্ঞা করেন নন্দ বংশ ধ্বংস করবেন। তিনি চন্দ্রগুপ্তকে তৈরি করেন।প্রতিষ্ঠাতা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য । (ইনিই ভারতের প্রথম সম্রাট যিনি গ্রিকদের হারিয়েছিলেন)।শ্রেষ্ঠ শাসক: সম্রাট অশোক (চন্দ্রগুপ্তের নাতি)। কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে তিনি চণ্ডাশোক থেকে ধর্মাশোকে পরিণত হন।শেষ শাসক: বৃহদ্রথ (তাঁকে হত্যা করে এই বংশের পতন হয়)।রাজধানী: পাটলিপুত্র (বর্তমান ভারতের পাটনা)।মনে রাখার বিশেষ তথ্য: চাণক্য বা কৌটিল্য এই আমলেই ‘অর্থশাস্ত্র’ রচনা করেন।গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস এই সময়েই ভারতে আসেন এবং ‘ইন্ডিকা’ বই লেখেন।সাঞ্চী স্তূপ ও অশোক স্তম্ভ (যা ভারতের জাতীয় প্রতীক) এই আমলের তৈরি।
২. গুপ্ত বংশ (The Gupta Empire) - ভারতের স্বর্ণযুগ
পটভূমি: মৌর্যদের পতনের পর ভারত ছোট ছোট রাজ্যে ভাগ হয়ে যায়। গুপ্তরা আবার ভারতকে এক করে। এই সময় সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শিল্পে ভারত সেরা ছিল বলে একে‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়।প্রতিষ্ঠাতা: শ্রীগুপ্ত (আদি পুরুষ), কিন্তু প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়প্রথম চন্দ্রগুপ্ত -কে।শ্রেষ্ঠ শাসক: সমুদ্রগুপ্ত । তাকে বলা হয়‘ভারতের নেপোলিয়ান’ (কারণ তিনি কোনো যুদ্ধে হারেননি)।অন্যতম শাসক: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (বিক্রমাদিত্য)। তার সভাতেই নবরত্ন (কালিদাস সহ ৯ জন গুণী ব্যক্তি) ছিলেন।রাজধানী: পাটলিপুত্র।মনে রাখার বিশেষ তথ্য: কালিদাস (মেঘদূত, শকুন্তলা) এই আমলের কবি। আর্যভট্ট (শূন্যের ধারণা ও মহাকাশ বিজ্ঞানী) এই আমলের। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেন কুমারগুপ্ত। চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন এই সময়েই ভারতে আসেন।
৩. পাল বংশ (The Pala Dynasty) - বাংলার দীর্ঘস্থায়ী রাজত্ব
পটভূমি: শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় ১০০ বছর ধরে চরম অরাজকতা চলে (যাকে বলেমাৎস্যন্যায় )। তখন বাংলার সাধারণ মানুষ ও প্রধানরা মিলে একজনকে রাজা নির্বাচন করেন। এটাই ভারতের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন।প্রতিষ্ঠাতা: গোপাল (জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজা)।শ্রেষ্ঠ শাসক: ধর্মপাল । তিনি পাল সাম্রাজ্যকে সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যান।রাজধানী: পাহাড়পুর (সোমপুর), গৌড়—বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত হয়েছে।ধর্ম: এরা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।মনে রাখার বিশেষ তথ্য: এরা বাংলার ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ (৪০০ বছর)।ধর্মপাল সোমপুর মহাবিহার (নওগাঁর পাহাড়পুর) নির্মাণ করেন।চর্যাপদ (বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন) এই পাল আমলেই রচিত হয়। বরেন্দ্র বিদ্রোহ (কৈবর্ত বিদ্রোহ) এই আমলেই হয়েছিল।
৪. সেন বংশ (The Sena Dynasty) - বাংলার শেষ হিন্দু রাজত্ব
পটভূমি: পাল বংশ দুর্বল হয়ে পড়লে দক্ষিণ ভারত (কর্ণাটক) থেকে আসা সামন্ত সেনের বংশধরা বাংলায় ক্ষমতা দখল করে। এরা পালদের মতো বৌদ্ধ ছিল না, এরা ছিল কট্টর হিন্দু।প্রতিষ্ঠাতা: সামন্ত সেন (নামমাত্র), প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতাবিজয় সেন ।শ্রেষ্ঠ শাসক: বল্লাল সেন ও বিজয় সেন।শেষ শাসক: লক্ষ্মণ সেন (বখতিয়ার খলজী যখন বাংলা আক্রমণ করেন, ইনিই তখন রাজা ছিলেন এবং পেছনের দরজা দিয়ে পলায়ন করেন)।রাজধানী: নবদ্বীপ, বিক্রমপুর, গৌড়।মনে রাখার বিশেষ তথ্য: কৌলীন্য প্রথা (ব্রাহ্মণদের উচু নিচু ভেদ) চালু করেন বল্লাল সেন।বিখ্যাত কবি জয়দেব (গীতগোবিন্দ রচয়িতা) লক্ষ্মণ সেনের সভায় ছিলেন। ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজীর আক্রমণের মাধ্যমে সেন বংশের তথা প্রাচীন যুগের পতন ঘটে এবং বাংলায় মুসলিম শাসন শুরু হয়।
Comments
Post a Comment