আলজিয়ার্স চুক্তি
আলজিয়ার্স চুক্তিকে (Algiers Agreement) কখনো না ভোলার জন্য আমরা এটিকে একটি
গল্পের প্রেক্ষাপট (সহজে বোঝার জন্য)
ইরাকের দাবি: পুরো নদীটাই আমার।ইরানের দাবি: না, নদীর মাঝখান দিয়ে সীমানা হবে।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Key Facts)
ইরাক: সাদ্দাম হোসেন (তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট)।ইরান: শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি।মধ্যস্থতাকারী: আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ারি বুমেদিয়েন।৪.মূল বিষয়: শাত-ইল-আরব জলপথের সীমানা নির্ধারণ।৫.সিদ্ধান্ত (থালওয়েগ নীতি): নদীরসবচেয়ে গভীর অংশ (Deepest point) দিয়ে সীমানা নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, নদীর মাঝখান দিয়ে বর্ডার হবে।
যে নাটকীয় ঘটনার জন্য এটি মনে রাখবেন (Never Forget Moment)
১৯৭৫: সাদ্দাম হোসেন চুক্তি মেনে নিয়ে নদীর অর্ধেক ইরানকে দিয়ে দেন। বিনিময়ে ইরান কথা দেয় তারা ইরাকের কুর্দি বিদ্রোহীদের সাহায্য করবে না।১৯৮০: সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতায় আসার পর ইরানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েটেলিভিশন ক্যামেরার সামনে আলজিয়ার্স চুক্তিটি ছিঁড়ে ফেলেন এবং ইরান আক্রমণ করেন। শুরু হয় দীর্ঘ ৮ বছরের রক্তক্ষয়ী ইরান-ইরাক যুদ্ধ।১৯৯০: ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, ইরাক যখন কুয়েত দখল করে বিপদে পড়ে, তখন সাদ্দাম হোসেন নিজের পিঠ বাঁচাতেআবার সেই আলজিয়ার্স চুক্তি মেনে নেন এবং ইরানকে তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেন।
সাম্প্রতিক বা বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা (Current Context)
মিল কোথায়? ১৯৭৫ সালের আলজিয়ার্স চুক্তিতে ইরান যেমন কথা দিয়েছিল কুর্দিদের উসকে দেবে না, ২০২৩ সালের এই চুক্তিতেও ইরাক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা তাদের মাটিতে থাকা ইরানের কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণ করবে এবং নিরস্ত্র করবে। এটি আলজিয়ার্স চুক্তির সেই 'নিরাপত্তা' অংশেরই আধুনিক সংস্করণ বলা যেতে পারে।
এক কথায় মনে রাখার মন্ত্র:
"৭৫-এ শাত-ইল-আরব ভাগাভাগি, ৮০-তে সাদ্দামের ছেঁড়াছেঁড়ি, ৯০-এ আবার জোড়াতালি।"
Comments
Post a Comment