আলজিয়ার্স চুক্তি

আলজিয়ার্স চুক্তিকে (Algiers Agreement) কখনো না ভোলার জন্য আমরা এটিকে একটি 'নদীর মালিকানা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর ঝগড়া ও মিটমাট'-এর গল্প হিসেবে মনে রাখব।

নিচে চুক্তিটির বিস্তারিত, মনে রাখার কৌশল এবং সাম্প্রতিক তথ্য দেওয়া হলো:

গল্পের প্রেক্ষাপট (সহজে বোঝার জন্য)

ইরাক এবং ইরান—এই দুই প্রতিবেশী দেশের মাঝ দিয়ে একটি নদী প্রবাহিত, যার নাম 'শাত-ইল-আরব' (ইরান বলে 'আরভান্দ রুদ')। এই নদীটি পারস্য উপসাগরে গিয়ে পড়েছে।

  • ইরাকের দাবি: পুরো নদীটাই আমার।

  • ইরানের দাবি: না, নদীর মাঝখান দিয়ে সীমানা হবে।

এই ঝগড়া মেটানোর জন্য ১৯৭৫ সালে আলজেরিয়ার রাজধানী 'আলজিয়ার্স'-এ দুই দেশের নেতারা বৈঠকে বসেন। এটিই আলজিয়ার্স চুক্তি।


পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Key Facts)

১. স্বাক্ষরিত হয়: ৬ মার্চ, ১৯৭৫ সালে।
২. স্থান: আলজিয়ার্স, আলজেরিয়া।
৩. কারা স্বাক্ষর করেন:

  • ইরাক: সাদ্দাম হোসেন (তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট)।

  • ইরান: শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি।

  • মধ্যস্থতাকারী: আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ারি বুমেদিয়েন।
    ৪. মূল বিষয়: শাত-ইল-আরব জলপথের সীমানা নির্ধারণ।
    ৫. সিদ্ধান্ত (থালওয়েগ নীতি): নদীর সবচেয়ে গভীর অংশ (Deepest point) দিয়ে সীমানা নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, নদীর মাঝখান দিয়ে বর্ডার হবে।


যে নাটকীয় ঘটনার জন্য এটি মনে রাখবেন (Never Forget Moment)

এই চুক্তির ইতিহাস সিনেমার মতো নাটকীয়। এই ঘটনাটি মনে রাখলে চুক্তিটি আর ভুলবেন না:

  • ১৯৭৫: সাদ্দাম হোসেন চুক্তি মেনে নিয়ে নদীর অর্ধেক ইরানকে দিয়ে দেন। বিনিময়ে ইরান কথা দেয় তারা ইরাকের কুর্দি বিদ্রোহীদের সাহায্য করবে না।

  • ১৯৮০: সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতায় আসার পর ইরানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে আলজিয়ার্স চুক্তিটি ছিঁড়ে ফেলেন এবং ইরান আক্রমণ করেন। শুরু হয় দীর্ঘ ৮ বছরের রক্তক্ষয়ী ইরান-ইরাক যুদ্ধ।

  • ১৯৯০: ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, ইরাক যখন কুয়েত দখল করে বিপদে পড়ে, তখন সাদ্দাম হোসেন নিজের পিঠ বাঁচাতে আবার সেই আলজিয়ার্স চুক্তি মেনে নেন এবং ইরানকে তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেন।

সারাংশ: সাদ্দাম একবার চুক্তি করলেন

\rightarrow
ছিঁড়ে যুদ্ধ শুরু করলেন
\rightarrow
শেষে আবার মেনে নিলেন।


সাম্প্রতিক বা বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা (Current Context)

আলজিয়ার্স চুক্তি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে বৈধ, যদিও মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এর সাথে পরোক্ষভাবে যুক্ত:

১. সীমান্ত নিরাপত্তা চুক্তি (মার্চ ২০২৩):
খুব সম্প্রতি (২০২৩ সালে) ইরান এবং ইরাক বাগদাদে একটি 'বর্ডার সিকিউরিটি এগ্রিমেন্ট' স্বাক্ষর করেছে।

  • মিল কোথায়? ১৯৭৫ সালের আলজিয়ার্স চুক্তিতে ইরান যেমন কথা দিয়েছিল কুর্দিদের উসকে দেবে না, ২০২৩ সালের এই চুক্তিতেও ইরাক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা তাদের মাটিতে থাকা ইরানের কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণ করবে এবং নিরস্ত্র করবে। এটি আলজিয়ার্স চুক্তির সেই 'নিরাপত্তা' অংশেরই আধুনিক সংস্করণ বলা যেতে পারে।

২. রেলপথ সংযোগ (সেপ্টেম্বর ২০২৩):
শাত-ইল-আরব এলাকার কাছেই 'শালামচেহ' (ইরান) এবং 'বসরা' (ইরাক) এর মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিবাদ ভুলে এই অর্থনৈতিক সংযোগ আলজিয়ার্স চুক্তির সীমানাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে।

৩. ড্রেজিং ইস্যু:
শাত-ইল-আরব নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাচ্ছে। আলজিয়ার্স চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের যৌথভাবে এটি পরিষ্কার (ড্রেজিং) করার কথা। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ এই নদীটি পরিষ্কার করার জন্য পুনরায় আলোচনা শুরু করেছে।

এক কথায় মনে রাখার মন্ত্র:

"৭৫-এ শাত-ইল-আরব ভাগাভাগি, ৮০-তে সাদ্দামের ছেঁড়াছেঁড়ি, ৯০-এ আবার জোড়াতালি।"

Comments

Popular posts from this blog

These nouns are always plural: মনে রাখার জাদুকরী কৌশল

QUAD (কোয়াড): চারটি গণতান্ত্রিক দেশের কৌশলগত জোট

NATO (ন্যাটো)