IAEA (International Atomic Energy Agency)
ইতিহাস যেমন গল্পের মতো বলেছি,
১. IAEA আসলে কে? (The Identity)
পুরো নাম: International Atomic Energy Agency (আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা)।ডাকনাম/স্লোগান: Atoms for Peace and Development (শান্তি ও উন্নয়নের জন্য পরমাণু)।জন্মসাল: ১৯৫৭ (খুব সহজে মনে রাখার টেকনিক: ১৮৫7 সালে সিপাহী বিদ্রোহ হয়েছিল, ঠিক তার ১০০ বছর পর ১৯৫৭ সালে IAEA জন্মায়)।সদর দপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া । (মনে রাখার উপায়: পরমাণু বোমা মারলে মানুষ 'ভয়ে' মরে, তাই এর অফিস 'ভিয়েনা'-তে)।বর্তমান মহাপরিচালক (DG): রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি (আর্জেন্টিনার লোক)। ইনি খুব অ্যাক্টিভ, সারাক্ষণ দৌড়ঝাঁপ করেন।
২. এদের কাজ কী? (The Mission)
পুলিশি করা: কোনো দেশ গোপনে পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে কি না, তা চেক করা (ইরান বা উত্তর কোরিয়ার দিকে এরা সবসময় নজর রাখে)।ডাক্তারি করা: পরমাণু শক্তি ব্যবহার করে ক্যান্সার চিকিৎসা বা কৃষিকাজে সাহায্য করা।সেফটি গার্ড: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো (যেমন আমাদের রূপপুর) নিরাপদ কি না, তা তদারকি করা।
৩. অর্জন (The Achievement)
এরা এতই ভালো কাজ করেছে যে ২০০৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়। (তখন প্রধান ছিলেন মিশরের মোহাম্মদ এল বারাদি)।
৪. বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক (The Connection)
বাংলাদেশ ১৯৭২ সালেই (স্বাধীনতার পরপরই) IAEA-এর সদস্যপদ পায়।আমাদের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে IAEA ধাপে ধাপে সেফটি চেক করছে। তাদের গ্রিন সিগনাল ছাড়া আমরা ইউরেনিয়াম আনতে পারতাম না। ২০২৩ সালে তাদের মহাপরিচালক গ্রোসি বাংলাদেশে এসে রূপপুর ঘুরে গেছেন।
৫. সাম্প্রতিক ও হট টপিক (Current Affairs - যা পরীক্ষায় আসতে পারে)
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ): ইউক্রেনেজাপোরিঝিয়া (Zaporizhzhia) নামে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। যুদ্ধের কারণে সেখানে যেন বিস্ফোরণ না ঘটে, সেজন্য রাফায়েল গ্রোসি নিজে সেখানে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে IAEA-এর পর্যবেক্ষক বসিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘে বারবার সতর্ক করেছেন যে, "আমরা আগুনের ওপর বসে আছি।"ইরান ইস্যু: ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে কি না, তা নিয়ে IAEA ও ইরানের মধ্যে ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলছে। কিছুদিন আগে ইরান IAEA-এর কয়েকজন পরিদর্শককে নিষিদ্ধ করেছে, যা নিয়ে বেশ তোলপাড় চলছে।
Comments
Post a Comment