বৃক্ক বা কিডনির গঠন

বৃক্ক বা কিডনি মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। একে মনে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একে একটি ‘প্রাকৃতিক ছাঁকনি’ বা ‘Water Filter’ হিসেবে কল্পনা করা।

পরীক্ষার জন্য এবং সারাজীবন মনে রাখার জন্য আমি পুরো বিষয়টিকে ৩টি ধাপে ভাগ করে দিচ্ছি: ১. বাইরে থেকে দেখতে কেমন, ২. কাটলে ভেতরে কী দেখা যায়, এবং ৩. অণুবীক্ষণ যন্ত্রে আসল কাজটা কে করে।


ধাপ ১: বৃক্কের বাহ্যিক গঠন (বাইরে থেকে যেমন)

দৃশ্যকল্প (Visualization): কল্পনা করুন, একটি বড় লালচে রঙের শিমের বিচি (Bean Seed)। এটিই কিডনি।

১. অবস্থান: মানুষের পেটের পেছনের দিকে, মেরুদণ্ডের দুই পাশে দুটি বৃক্ক থাকে। ডান বৃক্কটি বাম বৃক্কের চেয়ে সামান্য নিচে থাকে (কারণ ডানদিকে লিভার থাকে, তাই জায়গা কম)।
2. রঙ ও আকার: এটি দেখতে লালচে-খয়েরি। লম্বায় ১০-১২ সে.মি. (প্রায় হাতের মুঠোফোনের সমান)।
3. ক্যাপসুল (Capsule): কিডনির গায়ে খুব পাতলা ও শক্ত একটা আবরণ থাকে, একে ক্যাপসুল বলে। (মনে রাখুন: ঔষধের ক্যাপসুলের মতো আবরণ)।
4. হাইলাম (Hilum): শিমের বিচির যে দিকটা বাঁকানো বা গর্ত করা থাকে, তাকে হাইলাম বলে। এটি হলো কিডনির ‘দরজা’

  • এই দরজা দিয়ে রেনাল ধমনী (ময়লা রক্ত নিয়ে) ঢোকে।

  • রেনাল শিরা (পরিষ্কার রক্ত নিয়ে) এবং ইউরেটার (মূত্র নিয়ে) বের হয়।


ধাপ ২: বৃক্কের অভ্যন্তরীণ গঠন (লম্বালম্বি কাটলে যা দেখা যায়)

যদি কিডনিকে লম্বালম্বি দুই ভাগ করেন, তবে খালি চোখে ৩টি প্রধান অঞ্চল দেখা যাবে:

১. কর্টেক্স (Cortex): কিডনির বাইরের দিকের হালকা রঙের অংশ।

  • মনে রাখার টেকনিক: C for Cortex, C for Cover (বাইরের অংশ)।

২. মেডুলা (Medulla): কর্টেক্সের নিচে ভেতরের দিকের গাঢ় লাল অংশ।

  • মনে রাখার টেকনিক: M for Medulla, M for Middle (মাঝখানের অংশ)।

  • এই মেডুলা অংশে পিরামিডের মতো দেখতে কিছু ত্রিকোণাকার গঠন থাকে, এদের রেনাল পিরামিড বলে। (সংখ্যায় ৮-১২টি)।

৩. পেলভিস (Pelvis): কিডনির একদম কেন্দ্রে সাদাটে ফানেলের মতো ফাঁকা জায়গা। এখানে ফোঁটায় ফোঁটায় মূত্র এসে জমা হয় এবং ইউরেটার দিয়ে বের হয়ে যায়।

  • মনে রাখার টেকনিক: Pelvis শব্দটিকে ‘পাত্র’ ভাবুন, যেখানে মূত্র জমা হয়।


ধাপ ৩: আণুবীক্ষণিক গঠন (আসল কাজ যে করে - নেফ্রন)

এটিই পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৃক্কের গঠন ও কাজের একক হলো নেফ্রন (Nephron)

  • সংখ্যা: প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে। এগুলোই আসল ছাঁকনির কাজ করে।

নেফ্রনের প্রধান ২টি অংশ:
ক. রেনাল করপাসল (মাথা): এটি ছাঁকনির কাজ করে। এর আবার দুটি অংশ:

  1. বোম্যান্স ক্যাপসুল: দেখতে কাপের মতো।

  2. গ্লোমেরুলাস: কাপের ভেতরে থাকা একগুচ্ছ রক্তনালিকা। এখান থেকেই রক্ত ছেঁকে বর্জ্য পদার্থ আলাদা হয়।

খ. রেনাল টিউবিউল (লেজ): এটি নালির মতো। ছাঁকার পর প্রয়োজনীয় পানি বা লবণ যদি ভুলে বেরিয়ে যায়, এই নালিগুলো তা আবার শোষণ করে রক্তে ফেরত পাঠায়। এর ৩টি অংশ:

  1. প্রোক্সিমাল নালি (কাছের নালি)

  2. হেনলির লুপ (U আকৃতির)

  3. ডিস্টাল নালি (দূরের নালি)


এক নজরে মনে রাখার চার্ট (পরীক্ষার জন্য)

অংশবর্ণনা/কাজটেকনিক
হাইলামকিডনির প্রবেশপথ (বাঁকানো অংশ)কিডনির ‘দরজা’
কর্টেক্সবাইরের হালকা অংশCover (বাইরে)
মেডুলাভেতরের গাঢ় অংশMiddle (ভেতরের)
পেলভিসমূত্র জমার স্থানমূত্র রাখার ‘পাত্র’
নেফ্রনকিডনির একক (১০-১২ লাখ)আসল ফিল্টার মেশিন
গ্লোমেরুলাসরক্ত ছাঁকন যন্ত্রচা ছাঁকনির মতো

পরীক্ষার খাতায় লেখার টিপস:

১. ছবি: কিডনির লম্বচ্ছেদের একটি সাধারণ ছবি আঁকবেন। শিমের বিচির মতো এঁকে বাইরের দিকে 'কর্টেক্স', ভেতরে পিরামিড এঁকে 'মেডুলা' এবং গর্তের দিকে 'পেলভিস' ও 'ইউরেটার' চিহ্নিত করলেই ফুল মার্কস।
২. পার্থক্য: ডান ও বাম কিডনির অবস্থান (ডানটি নিচে) উল্লেখ করতে ভুলবেন না।
৩. একক: নেফ্রন শব্দটি অবশ্যই উল্লেখ করবেন।

এই ব্যাখ্যাটি মাথায় রাখলে আশা করি কিডনি বা বৃক্কের গঠন আর কখনোই ভুলবেন না!

Comments

Popular posts from this blog

These nouns are always plural: মনে রাখার জাদুকরী কৌশল

QUAD (কোয়াড): চারটি গণতান্ত্রিক দেশের কৌশলগত জোট

NATO (ন্যাটো)