CTBT, NPT, CWC, ABM
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণের এই ৪টি চুক্তি আন্তর্জাতিক রাজনীতির খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলো গুলিয়ে ফেলা খুব স্বাভাবিক। তাই আমরা এগুলোকে
১. NPT (Nuclear Non-Proliferation Treaty)
গল্পটা বুঝুন: ১৯৬৮ সালে বিশ্বের মোড়লরা (যাদের পরমাণু বোমা ছিল) বলল, "আমাদের কাছে বোমা আছে থাক, কিন্তু নতুন করে আর কেউ বোমা বানাতে পারবে না।" অর্থাৎ, ক্লাবের পুরনো মেম্বাররা সুবিধা পাবে, নতুনরা ঢুকতে পারবে না।সাল: স্বাক্ষরিত১৯৬৮ , কার্যকর১৯৭০ ।স্বাক্ষর করেনি কারা (বিদ্রোহী): ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল (এরা বলে, এটা বৈষম্যমূলক চুক্তি)। উত্তর কোরিয়া সই করেও পরে বেরিয়ে গেছে।স্বীকৃত ৫ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ (P5): যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স।সাম্প্রতিক: ইরান যাতে পরমাণু বোমা বানাতে না পারে, সে জন্য পশ্চিমা বিশ্ব সব সময় এই NPT চুক্তির দোহাই দেয়।
২. CTBT (Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty)
গল্পটা বুঝুন: বোমা তো বানানো হলো (NPT-তে আটকাতে পারেনি)। এখন বিশ্বনেতারা বললেন, "ঠিক আছে, বোমা থাকুক, কিন্তুটেস্ট বাপরীক্ষা করা যাবে না।" কারণ টেস্ট করলেই পরিবেশ ধ্বংস হয় এবং যুদ্ধের ভয় বাড়ে।সাল: ১৯৯৬ সালে এটি জাতিসংঘে গৃহীত হয়।সদর দপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া (CTBTO)।টুইস্ট (কেন কার্যকর হয়নি?): এই চুক্তি কার্যকর হতে হলে বিশ্বের ৪৪টি নির্দিষ্ট দেশের (যাদের পারমাণবিক সক্ষমতা আছে) অনুমোদন বা Ratification লাগবে। কিন্তু আমেরিকা, চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ৮টি দেশ এখনো পুরোপুরি অনুমোদন না দেওয়ায় এটি ২৮ বছর ধরে ঝুলে আছে।ব্রেকিং নিউজ/সাম্প্রতিক (খুব গুরুত্বপূর্ণ): ২০২৩ সালের নভেম্বরেরাশিয়া সিটিবিটি (CTBT) থেকে তাদের অনুমোদন (Ratification)প্রত্যাহার করে নিয়েছে । এটি বিশ্বনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
৩. CWC (Chemical Weapons Convention)
গল্পটা বুঝুন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এবং পরে সাদ্দাম হোসেনের আমালে মানুষ মারতে বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। এটি দেখে বিশ্ববিবেক কেঁপে ওঠে। তাই সিদ্ধান্ত হয়, সব রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করে ফেলতে হবে।সাল: স্বাক্ষরিত১৯৯৩ , কার্যকর১৯৯৭ ।সংস্থা: OPCW (Organisation for the Prohibition of Chemical Weapons)। এর সদর দপ্তরহেগ, নেদারল্যান্ডস ।সম্মাননা: ২০১৩ সালে OPCWশান্তিতে নোবেল পুরস্কার পায়।মনে রাখার উপায়: হ্যাজমাট স্যুট (Hazmat Suit) বা মুখোশ পরা লোকদের ছবি কল্পনা করুন যারা কেমিক্যাল পরিষ্কার করছে।সাম্প্রতিক: ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া এবং ইউক্রেন একে অপরের বিরুদ্ধে ক্লোরোপিক্রিন বা টিয়ার গ্যাসের মতো রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ আনছে, যা CWC-এর লঙ্ঘন।
৪. ABM Treaty (Anti-Ballistic Missile Treaty)
গল্পটা বুঝুন: এটি একটি অদ্ভুত চুক্তি ছিল আমেরিকা ও রাশিয়ার (সাবেক সোভিয়েত) মধ্যে। লজিকটা ছিল এমন—"যদি আমার কাছে মিসাইল ঠেকানোর শক্তিশালী ঢাল (Anti-Missile) থাকে, তবে আমি তোমাকে আক্রমণ করতে ভয় পাব না। তাই আসো চুক্তি করি, আমরা কেউ বেশি শক্তিশালী ঢাল বানাব না।" একে বলা হয়MAD (Mutually Assured Destruction) নীতি।সাল: ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত।কারা: যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া)।মৃত্যু (The End): ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশএকতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান । ফলে বর্তমানে এই চুক্তিটিআর কার্যকর নেই ।ফলাফল: এই চুক্তি বাতিলের ফলেই এখন দেশগুলো 'আয়রন ডোম' বা 'এস-৪০০'-এর মতো মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম বানাচ্ছে।
এক নজরে পরীক্ষার জন্য চার্ট
"NPT তে বিস্তার রোধ, CTBT তে আওয়াজ রোধ, CWC তে বিষ রোধ, আর ABM এখন মৃত।"
Comments
Post a Comment