ভাজক টিস্যু: জীব বিজ্ঞান
তিন প্রকার ভাজক টিস্যুর শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে "কোষগুলো কোন দিকে বা কোন তলে (Plane) ভাগ হচ্ছে" তার ওপর ভিত্তি করে।
১. মাস ভাজক টিস্যু (Mass Meristem)
কীভাবে বাড়ে: আপনি যখন বেলুন ফোলান, তখন সেটা কি শুধু লম্বায় বাড়ে? না! সেটা ডানে, বামে, উপরে, নিচে—অর্থাৎ সব দিকে সমানভাবে বাড়ে। বিজ্ঞানের ভাষা: এই টিস্যুর কোষ বিভাজন সব তলে (All planes) ঘটে। ফলে এটি নির্দিষ্ট কোনো আকার না নিয়ে একটা পিণ্ড বা দলা (Mass) তৈরি করে। কাজ: গাছের ঘনত্ব বা ভলিউম বাড়ানো। উদাহরণ: ভ্রূণ (Embryo), রেণুথলি, মজ্জা (Pith), কর্টেক্স।
মনে রাখার টেকনিক: Mass (মাস) মানেই তো ভর বা পিণ্ড। মনে করবেন, এটা খেয়ে গাছ "Massive" বা বিশাল মোটা হয়।
২. প্লেট ভাজক টিস্যু (Plate Meristem)
কীভাবে বাড়ে: রুটি বেলার সময় আটাটা চারপাশ দিয়ে ছড়িয়ে চ্যাপ্টা হয়ে যায়, তাই না? কিন্তু ওপরের দিকে উঁচু হয় না। অর্থাৎ এটি একটি চ্যাপ্টা পাতের মতো বাড়ে। বিজ্ঞানের ভাষা: এই টিস্যুর কোষ বিভাজন দুই তলে (Two planes) ঘটে। ফলে কোষগুলো এক স্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং চ্যাপ্টা আকার ধারণ করে। কাজ: গাছের কোনো অংশের আয়তন নয়, বরং ক্ষেত্রফল (Area) বাড়ানো। উদাহরণ: গাছের পাতা (Leaf)। পাতা তো প্লেটের মতোই চ্যাপ্টা, তাই না?
।
মনে রাখার টেকনিক: Plate (প্লেট) = চ্যাপ্টা। আর গাছের চ্যাপ্টা অংশ কী? পাতা (Pata)। Plate Pata (পাতা)
৩. রিব ভাজক টিস্যু (Rib Meristem)
কীভাবে বাড়ে: আপনি যদি একটার ওপর একটা কয়েন রাখেন, তাহলে কী হবে? একটা লম্বা স্তম্ভ বা লাঠির মতো তৈরি হবে। কিংবা মানুষ যেমন টিকেট কাউন্টারে এক লাইনে দাঁড়ায়। বিজ্ঞানের ভাষা: এই টিস্যুর কোষ বিভাজন এক তলে (One plane) ঘটে। ফলে কোষগুলো একটার পর একটা সজ্জিত হয়ে রৈখিক সজ্জা বা সারিবদ্ধ অবস্থা তৈরি করে। দেখতে বুকের পাঁজরের (Rib) মতো দেখায়। কাজ: মূল বা কান্ডের ভেতরের লম্বা লম্বা গঠন তৈরি করা। উদাহরণ: মজ্জা রশ্মি (Pith rays), তরুণ মূল ও কান্ড।
মনে রাখার টেকনিক: Rib (রিব) মানে হাড় বা পাঁজর। বুকের পাঁজর যেমন সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে, এই কোষগুলোও তেমন 'এক লাইনে' সাজানো থাকে।
Comments
Post a Comment